আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গোপন রাখা খেলাপি ঋণের সঠিক তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণের ফলে, বিপুল সংখ্যক খেলাপি ঋণ এখন প্রকাশ্যে আসছে—এমনটাই জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন দিগন্তের দিকে এগোচ্ছি। লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে, খেলাপি ঋণের আসল চিত্র এখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে।” ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে staggering ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা—এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ।
গভর্নর আরও বলেন, “নতুন তথ্যের প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। আমরা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন করতে চাই। যেসব ব্যাংক একীভূত করার প্রয়োজন, সেগুলোকে একীভূত করা হবে অথবা নতুন বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, “আইনগত সংস্কার চলছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন রিভিউ করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, আমরা ব্যাংক খাতকে আইন অনুযায়ী পুনর্গঠন করব।”
ডিসেম্বরের প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ। আলোচ্য সময় শেষে ব্যাংক খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা।
এর আগে, ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ খেলাপির রেকর্ড ছিল সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে, যেখানে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। ফলে, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে, ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে ৬০ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে staggering ২ লাখ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয় ৯ শতাংশ। এরপর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা—এটি মোট বিতরণ করা ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
এভাবে, খেলাপি ঋণের এই উর্ধ্বগতি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।