দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং চিত্রনায়ক ও নির্মাতা আদনান আল রাজীবের বিয়ের আয়োজন যেন এক বিস্ময়কর যাত্রা। ঢাকার অদূরে একটি মনোরম রিসোর্টে, ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার, জমকালো এক অনুষ্ঠানে এই তারকা জুটির বিয়ের পিঁড়িতে বসার সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি দেখা গিয়েছিল।
বিয়ের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তাদের আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে শোবিজ দুনিয়ার অনেক চেনা মুখ। মেহজাবীন এবং রাজীবের বিভিন্ন মিষ্টি মুহূর্তগুলোর ছবি এবং ভিডিও এখনো ভাইরাল হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে আবেগ—বিয়ের প্রতিটি দৃশ্য ছিল যেন এক অপরূপ গল্প।
এদিকে, মেহজাবীনের এক আবেগঘন মন্তব্য শোনা গেছে। তিনি জানালেন, বিয়ের দিন নিজের মা’র দেওয়া শাড়ি পরেছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আমার মা তার আকদের দিনে যেই শাড়িটি পরেছিলেন, সেই শাড়ি আমি পেয়েছি উপহার হিসেবে। আর আমার জীবনের বিশেষ এই দিনে সেই শাড়িটি পরা ছিল মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে সুন্দর উপহার।” মেহজাবীনের এই কথা শুনে অনেকেই অনুভূতির সাগরে ডুবে গেছেন, কেননা এমন এক শাড়ির মধ্যে মিশে ছিল এক অমলিন ভালোবাসার গল্প।
তবে, বিয়ের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল কবুল বলার সময়। মেহজাবীন সেদিন চোখে পানি নিয়ে রাজীবকে কবুল বলেন, আর রাজীব উচ্ছ্বাসিত হয়ে তার স্ত্রীকে দেখেন। সেই ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে এবং বহু মানুষ এই বিশেষ মুহূর্তটি দেখতে গলা পর্যন্ত আবেগে ভেসে যায়। মেহজাবীনের চোখে অশ্রু এবং রাজীবের উচ্ছ্বাস—এই দৃশ্যটিই যেন বিয়ের অন্যতম হাইলাইট হয়ে ওঠে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাত ধরে অতিথিদের সাথে হাসি-খুশি ভাগাভাগি করছেন। অতিথিরাও বেশ উচ্ছ্বসিত—তাদের মধ্যে যেন উৎসাহের কোনো কমতি ছিল না। ক্যামেরাবন্দি করতে, সব অতিথির হাতে হাতে ছিল স্মার্টফোন, যেন ওই বিশেষ মুহূর্তটি সবার স্মৃতিতে চিরকালীন হয়ে যায়। এমন এক সময়ে, মেহজাবীন তার হাত বাড়িয়ে রাজীবের গালে আদুরে স্পর্শ দেন। সেই মুহূর্তে রাজীব তার স্ত্রীকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেন, আর একে অপরকে জড়িয়ে নেন—বিধির বিধানে যেন তারা একে অপরের অন্তরঙ্গ সঙ্গী হয়ে উঠেছেন।
এ সময় মেহজাবীনের চোখে আবারও অশ্রু জমে ওঠে। আর পুরো পরিস্থিতি ভারি হয়ে ওঠে যখন মেহজাবীন মুখ চেপে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সে অনুভূতির প্রকৃতি, যেন এক অনুভূতির ঢেউয়ে পুরো মুহূর্তটি ভেসে যায়। কিন্তু এরপর, রাজীব তাকে হাসি দিয়ে গালে চুমু খেয়ে, অশ্রু মুছে দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে মেহজাবীনের চোখে দেখা অশ্রু যেন এক স্মৃতি হয়ে গেল—এবং তার পরেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল তার মুখে, একেবারে অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি।
এই বিশেষ দিন, এই বিশেষ মুহূর্ত—যে মুহূর্তে সময় থেমে গিয়েছিল, সে মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও নয়, বরং অনুভূতির ঝিলমিল পৃথিবীটা তাদের জীবন ধরে রেখেছে।