মাদকদ্রব্য বহনের অভিযোগে বার্বাডোজের বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় পুলিশ কানাডা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিকোলাস কার্টনকে আটক করেছে। এই ঘটনা, যা ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, সেই সময় ঘটে যখন কানাডা সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল। কার্টন ছিলেন সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। টুর্নামেন্টে, তিনি আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একমাত্র জয়ী ম্যাচে ৩৫ বলে ৪৯ রান করে দলের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর করেছিলেন। কানাডা সেই ম্যাচে ১২ রানে জয়লাভ করেছিল। বার্বাডোজে, তার জন্মভূমিতে, তিনি যাচ্ছিলেন কানাডা থেকে। কিন্তু বিমানবন্দরে তার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ক্যানাবিস বা গাঁজা পাওয়া যায়, যার ফলে স্থানীয় পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে, ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত এই ক্রিকেটার পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনার ফলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বার্বাডোজের গ্র্যান্টলে অ্যাডামস বিমানবন্দরে নিকোলাসের সঙ্গে ২০ পাউন্ড বা ৯ কেজি ক্যানাবিস পাওয়া গেছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, ৫৭ গ্রাম পর্যন্ত গাঁজা থাকলে তা দণ্ডনীয় নয়, তবে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করা যাবে না। অন্যথায় জরিমানা গুণতে হবে। কিন্তু কার্টনের কাছে বৈধ সীমার চেয়ে প্রায় ১৬০ গুণ বেশি গাঁজা পাওয়া গেছে। কানাডা ক্রিকেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা নিকোলাস কার্টনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে অবগত আছি। আপাতত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। ক্রিকেট কানাডা চায় গোটা ঘটনায় যেন স্বচ্ছতা থাকে।” এদিকে, সামনে কানাডার খেলা রয়েছে। নর্থ আমেরিকা কাপে বাহামাস, বারমুডা, আমেরিকা ও ক্যামান আইল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে কানাডা ক্রিকেট দল। কিন্তু কার্টন সেখানে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ক্রিকেট কানাডা জানিয়েছে, “আমরা বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তবে তাতে আমাদের ম্যাচের প্রস্তুতিতে কোনও প্রভাব পড়বে না। আমরা গৌরব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশকে নেতৃত্ব দেব।” নিকোলাস কার্টন, যিনি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছেন, পরে কানাডার হয়ে খেলা শুরু করেন। ২০১৮ সালে তার জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে। গত বছর আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন, এই নতুন পরিস্থিতি তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।