জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করেছে। যদিও সংশোধনীর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে মূল অধ্যাদেশে কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে এটি আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনি বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার পথ প্রশস্ত করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা কঠোর ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ আপাতত স্থগিত রাখার প্রস্তাব বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ অধ্যাদেশে গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও তা বর্তমানে কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ করে মানবাধিকার, তথ্য অধিকার আইনসহ বিভিন্ন সংবিধান সমর্থিত আইনসমূহের ব্যাপারে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে। কমিটি পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল আকারে এসব আইন সংসদে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে। বিগত সরকারের আমলে গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতকরণে জারি হওয়া এই কঠোর আইন স্থগিত থাকায় বিচার প্রক্রিয়া সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আইনটি বাতিল নয়, বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি বিল আকারে পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি বাতিলের সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ক ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার উদ্যোগ সীমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সম্পর্কিত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে আপত্তি তোলেন। এসব ভিন্নমত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে নোট অফ ডিসেন্ট আকারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুসারে সংশোধিত অধ্যাদেশগুলো আগামী সংসদ অধিবেশনে পর্যায়ক্রমে উত্থাপিত হবে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ সংসদীয় বিতর্ক ও পুনর্মূল্যায়নের মুখে পড়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও বিচারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।