প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে চীন চালু করতে যাচ্ছে বিশেষ ভিসা স্কিম। ‘কে ভিসা’ নামের এই নতুন ভিসা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। বৃহস্পতিবার চীনের স্টেট কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। এই ভিসার মূল লক্ষ্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের বিদেশি মেধাবীদের আকর্ষণ করা। ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রযুক্তি পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্যে চীনের এই কৌশলগত পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো গবেষণা তহবিল কমাচ্ছে। আবেদনের জন্য প্রয়োজন খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টতা। বয়সসীমা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ বছরের কম বয়সীরা এই সুযোগ পাবেন। কে ভিসার অন্যতম আকর্ষণ হলো এর সহজ প্রক্রিয়া। চীনা নিয়োগকর্তা বা সংস্থার অফার লেটার ছাড়াই আবেদন করা যাবে। ভিসাধারীরা একাধিকবার চীনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন এবং সাধারণ ভিসার চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান করতে পারবেন। গবেষণার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকবে এই ভিসায়। বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের “চায়না ইনিশিয়েটিভ” এর বিরুদ্ধে পাল্টা কৌশল হিসেবে দেখছেন। গত পাঁচ বছরে আমেরিকা চীন-সম্পর্কিত স্টেম গবেষণায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার কর্তন করেছে, ফলে হাজারো তরুণ গবেষক এখন বিকল্প গন্তব্য খুঁজছেন। এই শূন্যতা পূরণেই বেইজিংয়ের ‘মেধা আমদানি’ কৌশল। ড. লি চেনের মতে, “এটি শুধু ভিসা নয়, প্রযুক্তি নেতৃত্বের দৌড়ে চীনের কৌশলগত অস্ত্র।” এই ভিসার মাধ্যমে এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। শেনঝেন, শাংহাই ও বেইজিংয়ের হাইটেক পার্কগুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো গোয়েন্দা ঝুঁকি এবং সাংস্কৃতিক অভিযোজনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। চীন আগামী সেপ্টেম্বরে ভিসার বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করবে। ভারত, ব্রাজিল ও ভিয়েতনামের তরুণ গবেষকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই এই সুযোগ নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণার স্বাধীনতা ও আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০,০০০ এরও বেশি শীর্ষ মেধাবীকে আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে চীন। বৈশ্বিক মেধা বাজারের এই নতুন প্রতিযোগিতা এখন দেখার অপেক্ষায় রেখেছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে।