গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি হলেও সংকট এখনও কাটেনি। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে কিডনির মারাত্মক জটিলতায় টানা চার দিন ডায়ালাইসিস চালানো হয়েছে। গত কয়েক দিন সাড়া-শব্দবিহীন অবস্থায় থাকার পর শনিবার তিনি কিছুটা কথা বলেছেন, যা চিকিৎসকদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও গুরুতর এবং আগামী দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আবার বিদেশে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এয়ার যাত্রার ধকল সামলানোর ক্ষমতা নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। লন্ডন ক্লিনিক কিংবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার উপযুক্ত নয়। খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং কিডনির সমস্যাসহ নানা জটিলতা থাকায় গত রোববার থেকে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে করোনাারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে ফুসফুসে শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হওয়ায় ডায়ালাইসিস চলেছে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ফের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়ে গেছে। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সবার দোয়া ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, অসুস্থতার খবরে হাসপাতালে ভিড় ধরে বিএনপির মহাসচিব নেতা-কর্মীদের হাসপাতালের সামনে ভিড় এড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে অন্য রোগীদের চিকিৎসায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে। রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতারা তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশব্যাপী দোয়া আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। এই সংকটকালীন সময়ে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।