মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতি আরও কঠোরতর হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনা এবং প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে একজন আফগান নাগরিকের গ্রেপ্তারের পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়। ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে চান এবং বাইডেন প্রশাসনের সময়ে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের প্রবাহ বন্ধ করতে চান। তবে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে কোন দেশগুলোকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি।
সাধারণত এই শব্দগুচ্ছ অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নির্দেশ করে। নতুন এই নীতির ফলে দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিকরা পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের জন্য অপেক্ষমান আবেদন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এতে দীর্ঘদিন পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখা দিতে পারে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৩ সালের জুনে ঘোষিত ১৯টি দেশের ওপর পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আফগানিস্তান, চাদ, ইরান, ইয়েমেনসহ বেশ কয়েকটি দরিদ্র দেশ রয়েছে। ইউএসসিআইএস ওই দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে এবং গ্রিন কার্ড যাচাই কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘স্থায়ী বিরতি’ আইনি দিক থেকে অপরিবর্তনীয় নয়, এটি প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিবর্তনযোগ্য। তবে এটি অভিবাসীদের মাঝে ভয়-ভীতি ছড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক অভিবাসীর জন্য কঠিন সময় শুরু হতে পারে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় আছেন কিংবা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযোগী নয় বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল এবং বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপরও কঠোর নজর রাখা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বজায় রেখে দেশকে ‘নিরাপদ’ রাখার চেষ্টা করছে। তবে এর আইনি প্রভাব ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক পর্যায়ে আলোচিত হতে পারে।