বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুসারে, নিট রিজার্ভ বর্তমানে ২৫.৮৬ বিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে। রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য আরও সুখবর বয়ে এনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসের প্রথম ২০ দিনে রেমিট্যান্স ৭.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬৪২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১,৫৩০ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রবাসীরা ৪,১২০ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৩,৪৪৩ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। এদিকে, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) দলের প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ‘আইডিয়া এক্সচেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “যদি ভারত সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চায়, তবে প্রথমে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো উচিত। তিনিও তো একজন বাংলাদেশি, তাই না?” ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। গণহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিনি জনরোষ থেকে বাঁচতে ভারতে পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়েছে, এবং ঢাকা তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে নয়াদিল্লির কাছে ফেরত চেয়ে চিঠি দিয়েছে। ওয়েইসি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা কেন শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছি? তিনি বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করছেন।” তিনি ভারত সরকারকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং গণঅভ্যুত্থানকে মেনে নিতে পরামর্শ দেন। ওয়েইসি আরও অভিযোগ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদের দরিদ্র বাংলাভাষী ভারতীয়দের জোর করে ধরে এনে সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি মোদি সরকারের ‘বাংলাদেশি বিতাড়ন নীতি’র সমালোচনা করে বলেন, “যারা বাংলা ভাষায় কথা বলেন, তাদেরই বাংলাদেশি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এটি একটি বিদেশাতঙ্কের প্রকাশ।” অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও, শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতার সৃষ্টি করেছে। এই ইস্যুতে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস