বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তির নতুন অধ্যায়! ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা ১১ দিনের বিশাল ছুটি যশোরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কড়া হুঁশিয়ারি: শান্তি বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না সংসদ সচিবালয়ে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরম আরও বাড়বে! ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রমে সম্প্রসারণ, আরও জেলা ও পেট্রোল পাম্প যুক্ত ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান, পুরস্কার গ্রহণ করলেন নাতনি জাইমা রহমান টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেলেন তারেক রহমান কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্য ভালো হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তির নতুন অধ্যায়!

bornomalanews
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ Time View

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও কারিগরি দিক নিয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: জাহেদুল হাছান। রূপপুর কেন্দ্রে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ‘তৃতীয় প্রজন্মের (প্লাস)’ ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর সর্বাধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী ‘পাঁচ স্তরের’ নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এই বহুস্তরীয় সুরক্ষা নীতির মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। উন্নত ‘অ্যাকটিভ সেফটি সিস্টেম’ এবং ‘প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম’ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা বা মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই জরুরি পরিস্থিতিতে চুল্লি বন্ধ করে কোর শীতল রাখে। ডাবল কনটেইনমেন্ট স্ট্রাকচার, কোর ক্যাচার এবং হাইড্রোজেন রিকম্বাইনারের মতো সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রয়োগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রূপপুর প্রকল্পে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতিতেও চুল্লিকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম। প্ল্যান্টে সাত হাজারেরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ইন্টারলক ও সেফটি ফাংশন যুক্ত রয়েছে, যা যেকোনো অস্বাভাবিক অবস্থায় নিজে থেকেই সক্রিয় হয়ে অপারেটর অনুপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সকল কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নিয়মিত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত জটিলতা, মাটি স্থিতিশীলকরণ, কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মতো নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ রূপপুর কেন্দ্রের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে। এই দিক থেকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উন্নত সঞ্চালন লাইন ও আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়েও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম স্পেন্ট ফুয়েল পুলে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে, যেখানে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত বর্জ্য রাখা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বা ফেরত পাঠানোর সুযোগ দেবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এই আধুনিক কেন্দ্র দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102