যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। লিমনের মৃতদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উদ্ধার করা হলেও, বৃষ্টির লাশ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীরা ওই এলাকায় কিছু দেহাংশ উদ্ধার করেছেন, যার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রধান আসামি হিসেবে আটক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহ, যিনি লিমন ও বৃষ্টিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগের মুখে পড়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার পাশাপাশি মৃতদেহ লুকানো, আলামত ধ্বংস ও অবৈধ বন্দী রাখাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় হিশামের গাড়ি একই এলাকায় ছিল যেখানে লিমনের মোবাইল ফোনের শেষ অবস্থান শনাক্ত হয়েছে। প্রসিকিউটররা মামলার নৃশংস ও সহিংস প্রকৃতির কথা উল্লেখ করে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে কারাগারে রাখার আবেদন জানাচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ (২৮ এপ্রিল) প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই হত্যাকাণ্ড পুরো কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার মন্তব্য করেছেন। তদন্তকারীরা বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং লিমনের ও আসামির শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের উপস্থিতি ও বৃষ্টির ভাইয়ের স্বীকৃত ডিএনএ মিলের ভিত্তিতে ধারণা করছেন, বৃষ্টিও নৃশংসভাবে নিহত হয়েছেন। আসামির বাম হাতের আঙুলে থাকা ব্যান্ডেজ ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলোও অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। মামলার এই নতুন তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি আরও একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের বাস্তবতা উন্মোচন করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্নও তুলেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে।