ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তার এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন এক দিন আগে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ৩০টিরও বেশি জাহাজ ও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় তেল কম্পানির প্রধানও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইরানি তেল বিক্রি ও সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ, যা তার প্রথম মেয়াদে কার্যকর করা হয়েছিল।
আরাগচি এদিন বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত এভাবে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ আমাদের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নেই।’ রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক যৌক্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ‘পারমাণবিক আলোচনা বিষয়ে ইরানের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা কোনো চাপ, হুমকি বা নিষেধাজ্ঞার অধীনে আলোচনা করব না।’ এর আগে লাভরভ মঙ্গলবার তেহরানে পৌঁছন। সেখানে তিনি আরাগচি ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ছিল মূল বিষয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক এই চুক্তি থেকে সরে আসে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। এ ছাড়া ইরান সোমবার জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সঙ্গে নতুন দফায় আলোচনা করে। ইউরোপের এই তিন দেশের (ই৩) সঙ্গে ইরানের এই সংলাপ নতুন করে শুরু হয় গত বছর। আরাগচি জানান, লাভরভকে তিনি সর্বশেষ আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুতে আমরা রাশিয়া ও চীনের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে এগিয়ে যাব।’
সিরিয়া নিয়ে ঘনিষ্ঠতা
এদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরান ও মস্কো তাদের সহযোগিতা আরো জোরদার করেছে। ইউক্রেন ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে, যা তেহরান বারবার অস্বীকার করেছে। জানুয়ারিতে মস্কো সফরকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা হয়। তবে ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ায় উভয় দেশই একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়, যখন ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। আসাদ সরকারকে রক্ষায় ইরান ও রাশিয়া দীর্ঘ এক দশক ধরে প্রচুর বিনিয়োগ করেছিল। আরাগচি জানান, সিরিয়া নিয়ে ইরান ও রাশিয়ার অবস্থান খুবই ঘনিষ্ঠ। তিনি বলেন, ‘ইরান চায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সিরিয়ার জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে দেশটির অগ্রগতি নিশ্চিত হোক।’