ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মন্তব্য থেকে সরে আসার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘একজন স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার, এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে, তিনি সেই মন্তব্য থেকে পিছিয়ে আসেন। সাংবাদিক জানতে চান, “আপনি কি এখনও জেলেনস্কিকে স্বৈরশাসক মনে করেন?” ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল, “আমি কি সেটা বলেছিলাম? আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে আমি তা বলেছি।” খবরটি প্রকাশ করেছে ইউএসএ টুডে।
আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তার আগে এই মন্তব্যটি করেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার, তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমারকে ওভাল অফিসে স্বাগত জানান, যেখানে তারা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “আমার পুতিনের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক আছে। আমি মনে করি, জেলেনস্কির সঙ্গেও আমার সম্পর্ক ভালো।”
এদিকে, ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিল গঠন করবে, যা ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ, হাইড্রোকার্বন এবং অন্যান্য আহরণযোগ্য সম্পদ থেকে আয় সংগ্রহ করে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে। ইউক্রেন এই তহবিলে তার আয়ের ৫০ শতাংশ জমা দেবে, যতক্ষণ না তা ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
এখন পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
গত সপ্তাহে, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে জেলেনস্কিকে ‘নির্বাচনবিহীন স্বৈরাচার’ বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, জেলেনস্কি যুদ্ধের কারণে ২০২৪ সালের বসন্তের নির্বাচন বাতিল করেছিলেন। ট্রাম্প জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যার পর জেলেনস্কি ট্রাম্পকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেন। এই বিবাদের মূল কারণ ছিল জেলেনস্কির বিরল খনিজ সম্পদের অধিকার দেওয়ার অনীহা।
এভাবে, রাজনৈতিক নাটকের এই নতুন অধ্যায়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যেখানে প্রতিটি মন্তব্য এবং পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে গভীর কৌশল এবং কূটনীতি।