শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংসদ সচিবালয়ে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরম আরও বাড়বে! ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রমে সম্প্রসারণ, আরও জেলা ও পেট্রোল পাম্প যুক্ত ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান, পুরস্কার গ্রহণ করলেন নাতনি জাইমা রহমান টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেলেন তারেক রহমান কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্য ভালো হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে প্রস্তুত ছায়ানট, রমনার বটমূলে আয়োজন শুরু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের চার সিটি করপোরেশন এলাকায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ফুয়েল পাস চালু, নিবন্ধন করবেন যেভাবে

গাজাবাসী প্রথম রোজার সেহরি ঠিক মতো খেতে পারেননি

bornomalanews
  • Update Time : শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫
  • ২৫৭ Time View

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়, যখন পবিত্র রমজান শুরু হয় শুক্রবার, তখন রাতের প্রথম সেহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সাধারণ মানুষ। তবে, গাজাবাসী জানতেন, প্রকৃতির অভিশাপ কখনোই ছেড়ে যায় না। ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে তাদের সেহরি গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বার্তাসংস্থা আনাদোলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রমজানের প্রথম রাতটি ছিল ভীষণ দুর্ভোগময়। ঠিক যখন গাজাবাসী সেহরি প্রস্তুতির জন্য উঠে বসেছিলেন, তখনই তাদের শাস্তি শুরু হয়—বৃষ্টি! তাদের অস্থায়ী তাঁবুগুলোর ভেতর পানি ঢুকে যায়, এবং তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভিজে যেতে থাকে।

তবে, বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে তাঁবু থেকে বেরিয়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না। এ অবস্থায়, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের কষ্ট ছিল অনস্বীকার্য। তাঁবুতে, যেখানে একপাশে গরম খাবারের অপেক্ষা, অন্যপাশে ছিল খালি পেটে, তারা একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রকৃতির কাছে তাদের কিছুই ছিল না—কেবল ভেজা কাপড়, মাটি, এবং অনিশ্চয়তা।

আর যারা তাদের বিধ্বস্ত বাড়িঘরে ফিরে গেছেন, তাদের অবস্থাও ছিল যন্ত্রণাদায়ক। ভাঙা দেয়াল এবং ছাদের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে তাদের রাতকে আরো অস্বস্তিকর করে তুলেছিল। শান্তির জন্য হয়তো আশা ছিল, কিন্তু শান্তির চেয়ে বড় ছিল তাদের সংগ্রাম—অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।

১৯ জানুয়ারির যুদ্ধবিরতির পর, ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে কিছুটা স্থিতি এসেছিল। তবে চুক্তি অনুযায়ী, গাজায় যেসব অস্থায়ী বাড়ি প্রবেশ করার কথা ছিল, তা ইহুদিবাদী ইসরাইলের পক্ষ থেকে পূর্ণ করা হয়নি। ফলে, সাধারণ মানুষ এখনো অস্থায়ী তাঁবুতে জীবনযাপন করতে বাধ্য। এবং সেই তাঁবুগুলির দুর্বলতার কারণে, একটু বৃষ্টি এলেই পুরো পরিস্থিতি তলিয়ে যেতে থাকে—তাদের দুঃখ যেন একটানা গতি নিয়ে এগিয়ে চলে।

যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা থামলেও, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। তথাপি, তারা যে সামান্য কিছু দিয়েই নিজেদের রমজান পালন করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, তা বৃষ্টির কারণে আবারও ম্লান হয়ে যায়। তারা যে চেয়েছিল—এ মাসের প্রথম সেহরির আনন্দ—তাও স্রষ্টার রহমত ছাড়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আর একদিকে, ইসরাইলের অবরোধের কারণে, গাজাবাসী প্রয়োজনীয় খাবারও ঠিকমতো পাচ্ছে না। এ এক চিরস্থায়ী সংকট, যেখানে চাহিদা ও উপায়—দুটোই সীমাবদ্ধ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102