গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ঘটে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি করে। তবে, এর পরবর্তী দিনেই জেলেনস্কি লন্ডনে পৌঁছালে, তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে দেখেই আবেগে ভরা হৃদয়ে জড়িয়ে ধরেন, যেন এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে, ব্রিটেন ইউক্রেনকে ২.৮৪ বিলিয়ন ডলার (২.২৬ বিলিয়ন পাউন্ড) ঋণ প্রদান করার ঘোষণা দেয়, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত হবে। শনিবার, ডাউনিং স্ট্রিটে এই ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হয়, এবং সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার একে অনন্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। সংবাদ সূত্রে জানা যায়, জেলেনস্কির গাড়িবহর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে, তার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। তাদের এই উচ্ছ্বাসের মধ্যে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জেলেনস্কিকে এক আবেগময় আলিঙ্গনে স্বাগত জানান এবং বলেন, “আপনাকে এখানে, এই ডাউনিং স্ট্রিটে অনেক অনেক স্বাগতম।”
স্টারমার আরও বলেন, “যেমনটি আপনি বাইরে রাস্তায় উল্লাসধ্বনি শুনছেন, গোটা যুক্তরাজ্যজুড়ে আপনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, এবং যত দিনই লাগুক, আমরা আপনার সঙ্গে, ইউক্রেনের সঙ্গে রয়েছি।” এই আন্তরিক সমর্থনের প্রতিদান হিসেবে, জেলেনস্কি ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “এই ঋণ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে। ঋণের অর্থ দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা হবে। রাশিয়ার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ দিয়ে আমরা এই ঋণ পরিশোধ করব। এটাই ন্যায়বিচার। যারা আক্রমণ করেছে, যারা আগ্রাসী, তাদেরই খরচ করতে হবে।”
এদিকে, যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই ব্রিটেন ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছে, এমনটাই মনে করিয়ে দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই ব্রিটেন আমাদের পাশে ছিল। প্রথম দিন থেকেই সঙ্গে থাকার জন্য ব্রিটেনের সরকার এবং জনগণকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এমন কৌশলী বন্ধু পেয়ে আমরা খুশি। আমরা ব্রিটেনের ওপর অনেক ভরসা করি।”
এ ঘটনার মধ্য দিয়ে, একটি শক্তিশালী কৌশলগত বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় রচনা হতে চলেছে, যেখানে ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন কেবল শাব্দিক নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।