শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চলছে! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ১৭৬ ফ্লাইট বাতিল সংসদের চীফ হুইপ পদে নিয়োগ পেয়েছেন বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম ১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু আগামী ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন তারেক রহমানের শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন হবে সর্বোচ্চ! বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন সরকার নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করল গণভোটের চূড়ান্ত গেজেট সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন, চলছে গণনা

বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে চীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত

bornomalanews
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫
  • ২১১ Time View

এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর বাংলাদেশের বিদ্যমান শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা আরও দুই বছর ধরে বহাল রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং। বৃহস্পতিবার, চীন সফররত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। এর ফলে, চীনের বাজারে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশন ঘটবে।

গ্রাজুয়েশনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র তিন বছরের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবে। কানাডাও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তারা এখনও আইন-কানুনে কোনো পরিবর্তন আনেনি। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে বাংলাদেশ একই সুবিধা চাইলেও, তারা এখনও কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

২০২২ সালে চীন বাংলাদেশকে ৯৯ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও, বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না; বরং দেশটিতে রপ্তানি আরও কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি হয়েছে ৬৭৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের ৬৮৩ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে চীনে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭১৫ মিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক ও র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম এ রাজ্জাক টিবিএসকে বলেন, “সক্ষমতা না থাকায় এলডিসি হিসেবে চীনের দেওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এ কারণে চীন হয়তো দুই বছর সুবিধা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে, চীনা বিনিয়োগসহ রপ্তানিখাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা গেলে এই সুবিধা খুব বেশি কাজে লাগাতে পারবে না বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন, “চীন বিশ্বের বৃহত্তম ট্রেডিং ইকোনমি। এই বাজারে দীর্ঘ সময় শুল্কমুক্ত সুবিধা বাংলাদেশের জন্য স্ট্র্যাটেজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সুবিধা পেতে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে পারে।”

ডব্লিউটিও’র নীতি অনুযায়ী, কোনও উন্নত দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষর করতে হলে ৯৯% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হয়, যা দু’টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে এফটিএ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। চীন যেহেতু এখনও উন্নয়নশীল দেশ, তাই দেশটির ১০% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও দীর্ঘ সময় ধরে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা আদায় করতে পারে। এজন্য ২০২৮ সালের মধ্যেই আলোচনা সম্পন্ন করে শুল্কমুক্ত সুবিধা দীর্ঘায়িত করা জরুরি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ কমছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীনের বিনিয়োগ ছিল ১.১৫ বিলিয়ন ডলার, আর ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট বিনিয়োগ ১.২৫ বিলিয়ন ডলার।

ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্কারোপ করায় চীনা কোম্পানিগুলো অন্যান্য দেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এ অবস্থায় অধিক পরিমাণে চীনা বিনিয়োগ পাওয়াই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই সফরের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে, চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করেন এম এ রাজ্জাক। তিনি বলেন, “চীনের বেসরকারি বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক জোন স্থাপনে গুরুত্ব দিতে হবে। চীনের বিনিয়োগকারীরা সুপার ইফিসিয়েন্ট। তাই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102