অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি কমার বিষয়ে আশাবাদী খবর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুনে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে—এমন একটি প্রত্যাশা নিয়ে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, সন্ধ্যা ৭টায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেওয়া এই ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, “গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জনগণ এর ভুক্তভোগী হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় এক লন্ডভণ্ড অর্থনীতি রেখে গেছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরেছে, এবং ক্রমান্বয়ে অর্থনীতির অন্যান্য সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে।” তবে, মূল্যস্ফীতি এখনও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯.৩২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আগামী জুন মাসের মধ্যে এটি ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।”
ড. ইউনূস আরও বলেন, “দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিয়েছে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড গড়েছে, প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আড়াই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।” তিনি প্রবাসীদের জন্য প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে তারা ভোগান্তির শিকার না হন এবং দূতাবাস সঠিকভাবে কাজ করে।
পলাতক সরকারের আমলে দেশের ব্যাংকগুলি দখল করে নেওয়া হয়েছিল, এবং আমানতকারীর টাকাকে ব্যক্তিগত টাকায় রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ড. ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম কাজ ছিল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা করা।”
তিনি আরও জানান, “গত সরকারের লুটপাটের মহোৎসবে ১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এই পাচারের পদ্ধতি ছিল অভিনব এবং হতভম্বকর।” উদাহরণস্বরূপ, বিদেশে অধ্যয়নরত সন্তানের কাছে টাকা পাঠানোর নামে এক সেমিস্টারের খরচ বাবদ ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ ডলার পাচার করা হয়েছে।
“আইন, নিয়ম, নীতির জায়গায় যখন হরিলুট প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এমন সবকিছুই সম্ভব,” বলেন ড. ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেন, “এই অর্থ পাচারকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।”
ড. ইউনূসের এই বক্তব্য দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে, তবে বাস্তবতা কতটা পরিবর্তিত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।