বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তিন প্রতিষ্ঠান—জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)—অবসায়নের বাইরে রাখা হয়েছে এবং তাদের আর্থিক পুনরুদ্ধারের জন্য আরও তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। বাকী ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০টি এনবিএফআইকে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় এ অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অবসায়নের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি নেওয়া হয়, যেখানে তাদের কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়ন করে তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অন্তত তিন হাজার ৫৫০ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে যেগুলো পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসির বিরুদ্ধে উঠেছে। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অবসায়নের পথে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যক্তিগত আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবং রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার আনুমানিক পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছেন। তবে আমানতকারীরা শুধুমাত্র তাদের মূল টাকা পাবেন, কোনো সুদ প্রদান করা হবে না। এই পদক্ষেপ দেশের আর্থিক খাতকে সুস্থ ও স্থিতিশীল রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।