দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোর সুরক্ষা এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে। দেশীয় বস্ত্রকারখানার মালিকদের উদ্বেগের ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশির দশক থেকে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতকে উৎসাহিত করতে সরকার আমদানিতে বন্ড সুবিধা দিয়ে আসছে, যার ফলে শুল্ক ও কর ছাড়ের মাধ্যমে সস্তায় কাঁচামাল আনা সম্ভব হচ্ছিল। তবে দেশের টেক্সটাইল মিলগুলো অভিযোগ করছে, প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানির কারণে তাদের উৎপাদিত সুতা বাজার থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা তাদের ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গত বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দফা আবেদন করেছিল, যা ভিত্তিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনের আলোকে মন্ত্রণালয় এনবিআরকে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ বস্ত্র ও পোশাক খাত থেকে আসে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। নিট পোশাকের প্রধান কাঁচামাল ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা, যা অধিকাংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বিটিএমএ জানায়, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ প্রায় ৩ ডলার, কিন্তু ভারত কম দামে আমদানির মাধ্যমে দেশীয় বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে। গত দুই বছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে দেশীয় মিলগুলো উৎপাদনের মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে ৫০টির মতো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আরও মিল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, যদি দেশীয় সুতা কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে নিট পোশাক খাত আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যা দেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হ্রাস করবে, লিড টাইম বাড়াবে, মূল্য সংযোজন কমাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে বন্ড সুবিধা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের।