সরকারি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ঈদ আনন্দ মিছিলে মূর্তি প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদ উদযাপনের জন্য যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল। তবে এবারের ঈদ যেন সকলের জন্য প্রকৃত আনন্দের উৎস হয়ে ফিরে এসেছে। সরকারি উদ্যোগে সুলতানী আমলের মতো ঈদ উদযাপন আমাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।” কিন্তু, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঈদ মিছিলে মূর্তি সদৃশ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি পবিত্র উৎসব, এবং ইসলাম মূর্তি, প্রতিমা বা কোনো দৃশ্যমান অবয়বের মাধ্যমে ধর্মীয় আনন্দ প্রকাশের অনুমতি দেয় না। ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো উদাহরণ নেই, যেখানে রাসূল (সা.), সাহাবা বা পরবর্তী খলিফারা ঈদ উদযাপনে মূর্তি বা প্রতিমা বহন করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “ঈদ আমাদের ধর্মীয় আবেগের বিষয়। একে সাংস্কৃতিক পরীক্ষাগারে পরিণত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামী ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে প্রতিমা সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা ঈদকে ঘিরে সরকারি উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আনন্দ মিছিলকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঈদ মিছিলে মূর্তি সদৃশ প্রতীক বহনের ঘটনা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও ঈদের পবিত্রতার পরিপন্থী। যারা ঈদ আয়োজনে অপ্রয়োজনীয় এই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এভাবে, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে ঈদের পবিত্রতা রক্ষার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে।