দক্ষিণ লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর: ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রতি আঘাত ও বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ দক্ষিণ লেবাননের দেব্ল গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থিত যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তির ওপর ইসরাইলি সেনার হাতে ব্যাপক ভাঙচুরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় তোলে। ছবিতে দেখা যায়, এক ইসরাইলি সেনা বড় হাতুড়ি দিয়ে মূর্তিটিতে আঘাত করছেন, যা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের হৃদয়ে গভীর আঘাতের পাশাপাশি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, এটি দক্ষিণ লেবাননে কর্মরত এক সেনার কর্মকাণ্ড, এবং তারা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ইসরাইলি পার্লামেন্টের ফিলিস্তিনি সদস্যরা এটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং এই ধরনের আচরণকে দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো পশ্চিমা বিশ্বকে এই ঘটনার নীরবতার জন্য কড়া সমালোচনার মুখে ফেলেছে। তারা বলছে, ধর্মীয় প্রতীকের ওপর পরিকল্পিত এই হামলার পরেও আন্তর্জাতিক মহল চুপ থাকার ফলে এমন বর্ণবাদী এবং বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ আরও উৎসাহিত হচ্ছে। শুধু গাজা বা লেবানন নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ধর্মীয় উপাসনালয়ের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে, আর ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০১টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার অধিকাংশ ঘটেছে জেরুজালেমের পুরনো শহরে। এই মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা এমন এক সময়ে সংঘটিত হল যখন ওই অঞ্চলে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং বৃহত্তর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিদ্বেষের প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনার কারণে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শান্তি ও সহাবস্থানের পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।