জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জেরে দাপ্তরিক কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে আরও নয়জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। সোমবার (১৮ আগস্ট ২০২৫) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মংলা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান, সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং অ্যাকাডেমির যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা, কর অঞ্চল-৭, ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) সুলতানা হাবীব, ফরিদপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কমিশনার মো. মেসবাহ উদ্দিন খান, দিনাজপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কমিশনার মো. মামুন মিয়া এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের পরিচালক চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী। এই বরখাস্তের পেছনে রয়েছে গত ১২ মে জারি করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর বিরোধিতা। অধ্যাদেশটির বিরুদ্ধে এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ, ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কিছু কর্মকর্তা মে ও জুন মাসে বিক্ষোভে অংশ নেন। আদেশে বলা হয়, এই কর্মকর্তারা সংগঠকের ভূমিকা পালন করে সহকর্মীদের দাপ্তরিক কাজে বাধা দিয়েছেন এবং কাজ বর্জন করে রাজস্ব ভবনে জড়ো হতে বাধ্য করেছেন, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই অভিযোগে ১৪ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং চারজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন, এবং এই আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই ঘটনা এনবিআরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার উপর নতুন করে আলোকপাত করেছে।