নভেম্বরের শেষ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বড় কেনাকাটার দিন ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ এবছরেও ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়েছে। মাস্টারকার্ড স্পেন্ডিং পালসের তথ্যমতে, মার্কিন ক্রেতারা এবারে অনলাইনে প্রায় ১ হাজার ১৮০ কোটি ডলার খরচ করেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৯.১ শতাংশ বেশি। তবে এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিবিদদের মতে তেমন উল্লেখযোগ্য নয়, কারণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩ শতাংশ থাকার কারণে বাস্তবে কেনাকাটা মাত্র ১ শতাংশের বেশি বাড়েছে। অর্থনীতিতে ‘কে আকৃতির’ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উচ্চ আয়ের শ্রেণির ক্রেতারা বিলাসবহুল পণ্য ও ভ্রমণে প্রচুর ব্যয় করছেন, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষদের কেনাকাটা কমে গেছে। তারা সীমিত বাজেটের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ভোক্তা বিশেষজ্ঞ ক্লাউডিয়া লোমবানার মতে, গড় দামে বাড়তি হওয়ায় কম অর্থশক্তির মানুষ কম পণ্য কিনছেন, আর ধনী শ্রেণিরা ইচ্ছামতো খরচ চালাচ্ছেন। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ শতাংশ ভোক্তা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে পণ্যের দাম আরও বাড়বে, যা তাদের কেনাকাটায় প্রভাব ফেলবে। যদিও অনেক ক্রেতা দাম বাড়ার প্রকৃত হার নিয়ে চিন্তিত নন, তবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির সাময়িক বন্ধ থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে তারা এখন আরও বেশি করে সঠিক দামে ভালো পণ্য খুঁজছেন এবং কেনাকাটায় বাছাই করছেন। তবে ছুটির মৌসুমে ভোক্তাদের উদারতা কিছুটা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এনআরএফ পূর্বাভাস দিয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে খুচরা বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩.৭ থেকে ৪.২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা রেকর্ড ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইনে পোশাকের বিক্রি ৬.১ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে দোকানে বিক্রিও ৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। থ্যাংক্সগিভিংয়ে অনলাইন বিক্রয় রেকর্ড ৬৪০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা ‘এখন কিনুন, পরে পরিশোধ করুন’ সুবিধা দিচ্ছে, যা ছুটির সময়কালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্রেতারা সতর্ক থাকলেও উৎসবের আনন্দ থেকে তারা বঞ্চিত হতে চান না। তাই তারা বাছাই করে, বাজেটের মধ্যে থেকে কেনাকাটা করছেন, যাতে অর্থনৈতিক চাপ কম থাকে এবং ছুটির আমেজও বজায় থাকে।