যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পুনঃমূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই পদক্ষেপ স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘পাবলিক চার্জ’ আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে যদি মনে করা হয় কোনো আবেদনকারী মার্কিন সরকারের ভাতা বা সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তবে তাদের ভিসা বাতিল করা যাবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে তারা মূল্যায়ন করবেন যে বিদেশি নাগরিকরা মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন কি না। যাদের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা দেখা দিবে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে। ২০০২ সালের নিয়ম অনুযায়ী কনস্যুলাররা পাবলিক চার্জের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে ২০১৯ সালে এই নীতিকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বর্তমান প্রশাসন কিছুটা সহজ করেছে। বর্তমানে এই নীতিকে পুনর্বিবেচনা করে ৭৫টি দেশের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, ব্রাজিলসহ আরও অনেক দেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। তবে বিজনেস ও ট্যুরিস্ট ভিসা (বি-১ ও বি-২) এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ কঠিন হয়ে পড়বে এবং ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রাপ্তি প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ ও জটিল হতে পারে। মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।