কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে তার ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বেতন নিয়ে বিরোধ ও বিভাগ বদলির বিষয় নিয়ে ঝামেলার সূত্র ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগের এক কর্মচারী ফজলুর রহমান গলায় ছুরি চালিয়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়। পরে ওই কর্মচারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এবং ইবি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, চিৎকার শুনে তারা ২২৬ নম্বর রুমে ছুটে যান, যেখানে দরজা ভিতর থেকে আটকা ছিল। আনসার সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ফেলেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুইজনকে দেখতে পান। পরে প্রশাসনকে জানানো হয়। ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন, অপর ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই নির্মম ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।