ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছিল, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে স্পষ্ট। প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বালানির মূল্য এবং সংকটের মাত্রাও। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমাণ এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারের বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে জানান, দেশের ডিজেলের ১৪ দিনের মজুদ রয়েছে। অকটেনের মজুদ ১৭ দিন, পেট্রোলের ৯ দিন, ফার্নেস ওয়েলের ৩৫ দিন, জেট ফুয়েলের ২১ দিন, কেরোসিনের ২০০ দিন এবং মেরিন ফুয়েলের ৪২ দিনের মজুদ আছে। বিপিসির গুদামগুলোতে সাধারণত ১৫ থেকে ৬০ দিনের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকে, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। পাশাপাশি, সরকার জরুরি অবস্থায় আমদানি অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। এ সংঘাতে ইরানে মোট নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৫০০ এর বেশি। হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রতিহামলা চালাচ্ছে এবং খামেনির হত্যার প্রতিবাদে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত মজুদ রক্ষা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।