মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কাতার তার এলএনজি রপ্তানিতে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতিজনিত কারণে চুক্তি পালনে অক্ষমতার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, কাতার সম্ভবত সম্প্রতি প্রথম এলএনজি চালানটি জাহাজে তুলে পাঠিয়েছে, যার গন্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এই চালান সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছানো বেশাংশটাই নির্ভর করছে পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’য় চলমান সংঘাতের পরিস্থিতির উপর। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা এলএনজি সরবরাহে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি করছে। হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথে চলে। এই সংকটের কারণে কাতার এনার্জি গত ২ মার্চ বাংলাদেশে তাদের চুক্তির ১৭ নম্বর ধারার আওতায় ‘সম্ভাব্য ফোর্স ম্যাজেউর’ নোটিশ প্রদান করে, যেখানে অঞ্চলটির সাম্প্রতিক সংঘাতকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে জাহাজে পুনরায় জ্বালানি পণ্য বোঝাই বা গন্তব্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। চলমান সংঘাত ও জলপথের বন্ধ থাকা পরিস্থিতিতে এই এলএনজি চালান মাঝপথে ভাসমান গুদাম হিসেবেও অবস্থান করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।