মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার হালনাগাদ পরিস্থিতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চলছে! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ১৭৬ ফ্লাইট বাতিল সংসদের চীফ হুইপ পদে নিয়োগ পেয়েছেন বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম ১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু আগামী ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন তারেক রহমানের শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন হবে সর্বোচ্চ! বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন সরকার নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করল গণভোটের চূড়ান্ত গেজেট সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধান উপদেষ্টা

সব বকেয়া চাইনি সাত দিনের মধ্যে: আদানি পাওয়ার

bornomalanews
  • Update Time : রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪
  • ২৭৬ Time View

বকেয়া পরিশোধের জন্য আদানি পাওয়ারের সময় বেঁধে দেওয়ার খবরে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া হওয়ার পর ভারতীয় ওই বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি বলেছে, প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের বকেয়ার পুরোটা তারা ৭ নভেম্বরের মধ্যে চায়নি।

রোববার সন্ধ্যায় একটি পিআর ফার্মের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার বলেছে, “আদানি সাত দিনের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ডলারের পূর্ণ পেমেন্ট দাবি করেনি। বিষয়টির সমাধানে আদানি বাংলাদেশের পিডিবির সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।”

আদানি গ্রুপের কোম্পানি আদানি পাওয়ার ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) বিদ্যুৎ দিচ্ছে। গত বছরের মার্চ থেকে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় আদানির ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে।

আদানি পাওয়ার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রায় ১২ টাকা করে নেয়। এই দর ভারতের অন্যান্য বেসরকারি উৎপাদকের দরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি এবং ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কেন্দ্রগুলোর তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি।

বিষয়টি নিয়ে গত সরকারের আমলেই প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু তার সুরাহা হয়নি। আর আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চাহিদার প্রায় এক দশমাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ, ফলে রাতারাতি চুক্তি বাতিল করাও সরকারের জন্য ‘কঠিন’।

এদিকে ডলার সংকটের কারণে গত সরকারের সময় থেকেই আদানির বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া পড়ে গেছে। সেই অঙ্ক ইতোমধ্যে ৮৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর। বকেয়া আদায়ে কিছুদিন পরপরই বাংলাদেশে ছুটে আসছেন আদানির প্রতিনিধিরা।

গড্ডার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৪০০ থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছিল। বকেয়া না পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার একটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেয় আদানি।

বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য ৩১ অক্টোবর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ১৭ কোটি ডলারের ঋণপত্র (এলসি) পরিশোধ করতে বলেছিল আদানি পাওয়ার। চুক্তি অনুযায়ী আদানিকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করার কথা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের।

তবে ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকটি অপারগতা প্রকাশ করায় সেই অর্থ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পাঠাতে চেয়েছিলেন বলে সূত্রের বরাতে লিখেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তবে তা চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় আদানি পাওয়ার তাতে সম্মতি দেয়নি।

এ পরিস্থিতিতে আদানি পাওয়ার একটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশের চলমান লোড শেডিং আরও বেড়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিবি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়েছে ভারতীয় ওই কোম্পানি।

এর মধ্যেই টাইমস অব ইন্ডিয়া রোববার খবর দেয়, বকেয়া নিষ্পত্তির সুরাহা না হলে আদানি পাওয়ার আগামী ৭ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।

ওই খবর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে আসার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অক্টোবর মাসে ওদেরকে (আদানি পাওয়ার) প্রায় ৯৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছি; সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

“এছাড়া তাদের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭ কোটি ডলারের এলসি করা হয়েছে। তারপরও তাদের এমন আচরণ খুব আশ্চর্যজনক, বিস্ময়কর এবং দুঃখজনক।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আদানি যদি সত্যিই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমরা এটা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত আছি। গ্রাহকরা যাতে ভোগান্তির মধ্যে না পড়ে, সেজন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102