হামজা দেওয়ান চৌধুরী, বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দীর্ঘ কয়েক বছর খেলার পর, অবশেষে ২৫ মার্চ, তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দলে অভিষেক করতে যাচ্ছেন। তবে, এই দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও, একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব জামাল ভূঁইয়ার হাতেই রয়ে গেছে। বুধবার (১৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, জামাল ভূঁইয়াকে দলের অধিনায়ক হিসেবে পুনরায় পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
হামজা চৌধুরী, যিনি বিশ্বমানের ক্লাব ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, এবার জাতীয় দলের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন। তার অভিষেক ভারতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। তার ভাষায়, “জামাল ভাইসহ আরও অনেক ফুটবলার দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে খেলছেন। আমি তাদের কাছ থেকে শিখতে চাই, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু নিতে চাই।”
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, যিনি বছরের পর বছর ধরে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, এবার হামজার মত বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে তার অধিনায়কত্বের অধীনে নেতৃত্ব দেবেন। ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচটি আসলেই তাৎপর্যপূর্ণ—কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, ভারতীয় ফুটবলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কারণ, ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী, যিনি দীর্ঘদিন ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ছিলেন, এবার তার অবসর ভেঙে ফিরে এসেছেন। কিন্তু জামাল ভূঁইয়া, এক প্রকার পরোক্ষভাবে বলেছেন, “যদিও সুনীল ছেত্রী অসাধারণ খেলোয়াড়, কিন্তু আমাদের ইংলিশ প্রিমিয়ারের ফুটবলারও আছেন। হামজার আসা আমাদের জন্য বড় এক আশীর্বাদ।”
এমন একটি ফুটবল পরিবেশে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে, হামজা চৌধুরীর আগমন এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। ২০১৩ সালে প্রথম প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশ দলে আসেন জামাল ভূঁইয়া। তার এই পথ ধরেই আরও অনেক খেলোয়াড় বাংলাদেশের জাতীয় দলে সুযোগ পায়। সেই ধারাবাহিকতায়, আজ হামজা চৌধুরী এসেছেন বাংলাদেশের ফুটবলের অভ্যন্তরে, পরিবর্তন এবং নতুন উন্মাদনার সম্ভাবনা নিয়ে। জামাল ভূঁইয়া তার সম্পর্কে বলেছেন, “হামজা বাংলাদেশের মেসি।”
অবশ্য, এই বলার মধ্যে নিহিত রয়েছে একটি বড় ধারণা—হামজার দক্ষতা এবং প্রভাবের কথা। যেখানে একজন মেসি, ফুটবলের বিশ্বরঙ্গমঞ্চে আছড়ে পড়েন, হামজাও তেমন এক নতুন সূর্য হয়ে উদিত হয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবল দৃশ্যে।