নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়—দুই দলের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও জালের দেখা পেল না কেউ। শিলংয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ০-০ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের মুহূর্তটি ধরা দেয়নি কোনো দলের জন্যই।
৯৪তম মিনিটে বাংলাদেশকে জয়সূচক গোল এনে দেওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাকিব হোসেন। দীর্ঘ ফ্রিকিক থেকে বলটি জটলার মধ্যে পড়ে যায়, সেটি পেয়ে ভারতের জিংগানকে পেরিয়ে রকেটগতিতে এগিয়ে যান রাকিব। দুর্দান্ত শটে বলটি উড়িয়ে দেন শিলংয়ের আকাশে! যদিও মুহূর্তটি হতাশার, তবুও ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দৃশ্য হয়ে রইল সেটাই।
এর কিছুক্ষণ আগে, ৮৯তম মিনিটে, বাংলাদেশের ফাহিম দূরপাল্লার এক শট নিয়ে পরীক্ষায় ফেলেন ভারতের গোলকিপার বিশাল কৈথকে। জোরালো শটটি সরাসরি তার হাতে জমা পড়লেও, সেই মুহূর্তটি ভারতীয় রক্ষণভাগের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আসে।
ম্যাচের একাধিক মুহূর্তে ভারত গোলের কাছে পৌঁছালেও, বাংলাদেশি ডিফেন্ডাররা দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৮৪তম মিনিটে সুনীল ছেত্রী সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার দুর্বল হেড পোস্টের বাইরে চলে যায়। ভারতের লিস্টন কোলাসো বেশ কয়েকবার আক্রমণে তীক্ষ্ণ ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি দলটি। বাংলাদেশের রক্ষণভাগে হিমশিম খেলেও চমৎকার পারফরম্যান্স দেখান হামজা, রাহমত ও রিদয়। বিশেষ করে ৭২তম মিনিটে রিদয়ের অসাধারণ ব্লক ভারতের নিশ্চিত গোল আটকে দেয়।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের প্রচেষ্টা স্পষ্ট হলেও, গোলের দেখা পায়নি কেউই। ভারতের আক্রমণভাগ তাদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি, অন্যদিকে বাংলাদেশও প্রতিআক্রমণে ধারালো হলেও জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ০-০ সমতায় শেষ হওয়া এই ম্যাচে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল সাহসী এক পারফরম্যান্স। ভারতের মাটিতে গিয়ে এশিয়ান বাছাইপর্বে মূল্যবান একটি পয়েন্ট ছিনিয়ে আনাটা সহজ ছিল না। তবে রাকিব ও ফাহিমদের জন্য আক্ষেপও রয়ে গেছে—যদি সেই ৯৪ মিনিটের মুহূর্তটি গোল হতো! তাহলে ঘুচতো ২২ বছরের অপেক্ষা।