যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে ছয়টি বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে, যা পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। বুধবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণী স্যাটেলাইট চিত্রগুলোতে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত সপ্তাহ থেকে পর্যবেক্ষণ করা স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এই বিমানের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ইরান ও ইয়েমেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা যেন দিন দিন বাড়ছেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, পারমাণবিক আলোচনায় বসার জন্য। অন্যথায়, ইরানের স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত—এই চারটি উপসাগরীয় দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না। এমন পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরে বি-২ বিমানগুলো মোতায়েন করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোর তুলনায় অনেকটাই দূরে অবস্থিত। ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ভারতের দক্ষিণে অবস্থিত, এবং এখান থেকে ইরান ও ইয়েমেনে হামলা চালানো সহজ। এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের দ্রুত অগ্রসরমান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা এখন চরমে। ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য বোমা হামলার জন্য বি-২ বিমানটি অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। ডিয়েগো গার্সিয়ায় মোতায়েন করা ছয়টি বি-২ বিমান আমেরিকার অস্ত্রাগারে থাকা এই মডেলের বিমানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। প্রাথমিকভাবে ২১টি বি-২ বোমারু বিমান ছিল মার্কিন বাহিনীর হাতে, কিন্তু ২০০৮ এবং ২০২২ সালে দুর্ঘটনায় দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, একটি বিমান অবসরে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুতিদের ওপর অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী জাহাজের সংখ্যা দুটিতে বাড়াচ্ছে। সেখানে থাকা আগের রণতরীটি বহাল থাকবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে আরেকটি পাঠানো হবে। এই পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতা এবং সামরিক কৌশলের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে, যা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।