বাংলাদেশে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন একটি মাইলফলক হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুত এই উদ্যোগের বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেওয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করেছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই নীতিমালা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর বর্তমান জটিলতা দূর করে একটি সমন্বিত ও বৈষম্যহীন কল্যাণ ব্যবস্থার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে এ প্রকল্পের পাইলট কার্যক্রমের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১০ মার্চ ১৪টি উপজেলায় একযোগে এর সূচনা হবে। আশা করা হচ্ছে চার মাসের মধ্যেই এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি উপজেলা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেক নির্বাচিত উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীদের কাছে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রত্যেক পরিবারকে দুই হাজার পাঁচশত টাকা করে দেওয়া হবে, যা সরাসরি ওই পরিবারের নারী প্রধান সদস্যের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই অর্থায়নের জন্য মোট দুই কোটি এগারো লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার সত্তর শতাংশের বেশি অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছবে। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা, একাধিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ এবং দরিদ্রদের বাদ পড়ার সমস্যা দূর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো একটি মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যেখানে প্রকৃত দরিদ্ররা সুবিধাভোগী হবেন এবং সমাজের সবচেয়ে অসহায় শ্রেণি বিশেষ করে ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার, হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। একই সঙ্গে, প্রকল্পটি নগদ ভাতা ও টিসিবি সহায়তা একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসবে, যা স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে ব্যবহারযোগ্য ও বহুমুখী সুবিধা প্রদান করবে। ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি সহ আরও নানা সেবা গ্রহণ করা যাবে। নীতিমালায় ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির তিন শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের আগেই সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তিনটি গ্রামে এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে, যা দেশের দরিদ্র নারীদের জন্য এক নতুন আশার আলো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সরকারি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।