বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তৃতা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র এবং তাৎক্ষণিক। গত সপ্তাহে চীনে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে ড. ইউনূস ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলকে ‘স্থলবেষ্টিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের ‘সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক’ বলে অভিহিত করেন। এই মন্তব্য ভারতের জন্য একটি সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে গৃহীত হয়েছে, যা জয়শঙ্করের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সূত্র: এনডিটিভি। জয়শঙ্কর তাঁর বক্তব্যে বঙ্গোপসাগর ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) ক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভারতের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধুমাত্র পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, বরং তাদের বেশিরভাগকে সংযুক্তও করে।” ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও ভারত প্রদান করে। জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল বিমসটেকের জন্য একটি ‘সংযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যেখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক বিদ্যমান। আমরা জানি, এই বৃহত্তর ভৌগোলিক ক্ষেত্রে পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষের সুষ্ঠু প্রবাহের জন্য আমাদের সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদান অপরিহার্য।” তিনি উল্লেখ করেন, “গত দশকে ভারত বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং মনোযোগ নিবেদিত করেছে। সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, এটি চেরি-পিকিং (পক্ষপাতদুষ্ট) বিষয় নয়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে জয়শঙ্কর ড. ইউনূসের মন্তব্যের প্রতি পরোক্ষভাবে তীব্র সমালোচনা করেন, যা দুই দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। এই পরিস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জটিলতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে, যেখানে কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।