মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশনীতি গত কয়েক মাসে এক ধরনের আগ্রাসী এবং একতরফা দিক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা প্রকাশ করে বলেছেন, তার নীতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে তার নিজস্ব নৈতিকতা, যা আন্তর্জাতিক আইন বা নিয়মের বাইরেই পরিচালিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার সামরিক নীতিতে ‘পাশবিক শক্তি’ ব্যবহারের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযান ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত হয়েছে, যেখানে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের অংশ। ট্রাম্প প্রশাসন যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতার কথা বললেও, একই সঙ্গে তারা তাদের নীতি প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক শক্তির পুনরাবৃত্তি হুমকিও দিয়েছে। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাব শুধু ভেনেজুয়েলায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং কলম্বিয়া ও ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড এলাকা নিয়ে তার হুমকিও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে তার সামরিক পদক্ষেপ এবং পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা, তার নীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে ‘নিঃসংকোচ’ মনোভাবের কথা প্রকাশ করেছেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পরাশক্তি হিসেবে দৃঢ় অবস্থানে আনার প্রচেষ্টা স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য বিপজ্জনক বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। জাতিসংঘের অনুমোদিত নিয়ম ও চুক্তিসমূহের প্রতি সম্মানহীনতা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য গভীর হুমকি স্বরূপ। বিচারক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সুতরাং, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা ও সামরিক শক্তির একতরফা ব্যবহার বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতার সূচনা করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।