ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে আক্রমণের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কার কারণে বিনিয়োগকারীরা ডলারে ঝোঁক বাড়িয়েছেন, যা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে গত বুধবার প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্য ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ডলারের রেফারেন্স রেটও সাম্প্রতিককালে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বাজারে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক দাম স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দিয়েছে, তবুও বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চাহিদার প্রভাবে দাম কিছুটা ওঠানামা করছে। ইউরো ও পাউন্ডের তুলনায়ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও রেমিটেন্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি এবং রপ্তানির ধীরগতি মুদ্রার বাজারে জটিলতা তৈরি করেছে। তবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অর্থনীতির স্থিতিশীলতার আশাবাদ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে ডলারের চাহিদা বিশ্বব্যাপী বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রাবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত পদক্ষেপ ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।