আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মাত্রায় অপতথ্যের ছড়ানোকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অপপ্রচারের প্রায় ৯০ শতাংশই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে সংগঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি অসংখ্য ভুয়া ছবি ও ভিডিও নির্বাচনী জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতিপূর্বে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের কাছে এই পরিস্থিতির গম্ভীরতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অপপ্রচারের মূল ফোকাস হিসেবে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের দাবি প্রচারিত হচ্ছে, যেখানে ‘হিন্দু জেনোসাইড’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে লক্ষাধিক পোস্ট হয়েছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ঘটনা মোট সংখ্যালঘু নির্যাতনের মধ্যে একটি সামান্য অংশ মাত্র। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধেও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টাও রয়েছে। এমনকি ক্রিকেট খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি উত্তেজনামূলক ভুয়া ভিডিও জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার পর্যন্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। যদিও ভারতের সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন পুনরাবৃত্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন মেটার সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিশেষ মনিটরিং ইউনিট গঠন করেছে এই অপতথ্য মোকাবিলায়। তবে কমিশনের মুখপাত্র বলেন, অনলাইন অপতথ্যের প্রবাহ সামলানো দুঃসাধ্য কাজ। তথ্য যাচাইয়ের সচেতনতা কম থাকায় সাধারণ ভোটারদের ভুল তথ্য গ্রহণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সঠিক তথ্য পরিবেশনা নিশ্চিতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।