আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল ও সমর্থকদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইদি রামার পদত্যাগ দাবি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এক পর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যেখানে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। পুলিশের জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের উত্তেজনাপূর্ণ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়, যদিও সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সালি বেরিশার নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক পার্টির হাজার হাজার সমর্থক সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন। বেরিশা বলেন, ইদি রামার নেতৃত্বে দেশ দারিদ্র্য ও দুর্নীতির অতলে নিমজ্জিত হয়েছে এবং তিনি রামাকে ‘রাজনৈতিক মৃতদেহ’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান। তার বক্তব্যের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে। এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী বেলিন্ডা বাল্লুকুর দুর্নীতির অভিযোগ, যার জন্য তাকে বরখাস্ত এবং বিশেষ প্রসিকিউটরের তদন্তের মুখে আনা হয়েছে। যদিও বাল্লুকু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও এই কেলেঙ্কারির ফলে সরকারের ভাবমূর্তিতে আঘাত লেগেছে। চলতি মাসে চতুর্থবার নির্বাচনে বিজয়ী হলেও একের পর এক মন্ত্রীর দুর্নীতির তদন্তের কারণে সরকার সংকটের মুখে পড়েছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলবানা কোসিউ এই সহিংসতাকে ‘ভণ্ডামি ও অপরাধ’ হিসেবে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। পুলিশ অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যদিও বিরোধী পক্ষ দাবি করেছে ৪০ জন সমর্থক আটক হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে যোগদানের লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ আলবেনিয়াকে গভীর অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।