ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য পরিবেশে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। মিশন প্রধান ইভার্স ইজাবসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তব প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নবায়িত আইনি কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করে অংশগ্রহণকারীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে নির্বাচন পরিচালনায় সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। যদিও প্রচারণা বিধি সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে। প্রায় সাড়ে আট লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছিল এবং নির্বাচন উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচনে কিছু চ্যালেঞ্জও পরিলক্ষিত হয়েছে। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাত্রা খুবই সীমিত থেকে গেছে যা পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহননের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ও সীমিত চলাচলক্ষম ভোটারদের জন্য সহজগম্যতার অভাবও এক বড় সমস্যা হিসেবে ধরা পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের প্রচারণা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কিছু ধরণের ক্ষতি করেছে। ইইউ মিশন তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, ভোট গণনা ও ফলাফল সংকলন প্রক্রিয়া মোটামুটি দক্ষ হলেও স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতার নির্দিষ্ট নিয়মাবলী পুরোপুরি অনুসরণ হয়নি। নির্বাচনে দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করায় ভোটারদের কাছে বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্প উপস্থাপিত হয়েছে, যা নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের প্রমাণ। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সংঘটিত অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে শতাধিক লোক হতাহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কমপক্ষে ৩০টি ভুয়া তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো হাজার হাজার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০০ জন পর্যবেক্ষককে দায়িত্বপ্রাপ্ত করেছে, যার মধ্যে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক ছিলেন। ২০০৮ সালের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। সার্বিকভাবে, নির্বাচনটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রক্রিয়াগত কিছু সীমাবদ্ধতা আগামীতে গুরুত্বসহকারে মোকাবেলা করা জরুরি বলে ইইউ মিশন উল্লেখ করেছে।