মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পরও তেল ও গ্যাসের দাম স্বাভাবিক হওয়ার পথ দীর্ঘ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে সময় লেগে যাবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের নিয়মিত ও স্থিতিশীল চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা আসা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপে রপ্তানি হয়। যুদ্ধের সময় ইরানের এই পথটি বন্ধ করে দেয়ার কারণে বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। যদিও যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তবুও প্রণালির মাধ্যমে চলাচল করা জাহাজের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় খুবই কম থাকায় পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। অর্থনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ এবং বীমা খরচ বৃদ্ধির ফলে সংকট আরও জটিল হয়েছে। তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ছয় মাস পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘর্ষ এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হ্রাস করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী চুক্তিতে পরিণত না হলে জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে এবং তেলের মূল্য আগের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। তাই, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বিশ্ববাজারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।