বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোসি উইন্টারটনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, লজিস্টিক খরচ হ্রাস ও ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দেশের ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য হওয়ায় সরকার এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সাথেও এই সংলাপ জোরদার করবে। তিনি যুক্তরাজ্যের ডেভলপিং কান্ট্রিস ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস) এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত রোসি উইন্টারটন বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের উদ্যোগ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পণ্যের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে বিদ্যমান সুবিধাগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সামুদ্রিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের আওতায় প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের রপ্তানি ঋণ সুবিধা ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করা হয়। এই সুবিধার মাধ্যমে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডায়ালগ পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে সম্মত হয় এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করে। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।