যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয় উত্তর আমেরিকা বিএনপির দুই দিনব্যাপী কর্মশালা ও সম্মেলন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি অঙ্গরাজ্য ও কানাডার পাঁচটি প্রদেশ থেকে আগত নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন ঢাকা থেকে অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, যিনি সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সমর্থকদের কর্মী ও কর্মীদের নেতা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দলের অগ্রগতি এবং শক্তিশালীকরণের জন্য সারাদেশ ও প্রবাসে থাকা শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থক থেকে কর্মী এবং কর্মী থেকে নেতা হিসেবে উন্নীত করা অত্যাবশ্যক। সম্মেলনের প্রধান বক্তা ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রবাসে বিএনপির নেতৃবৃন্দের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, প্রবাসীদের অবদান দল কখনো ভুলবে না। তিনি ২০৩১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রবাসীদের ভোটার রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ এবং দলীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান। জাতির পিতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রবাসী নেতাকর্মীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা দলের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান, যিনি কর্মশালার মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, যিনি বর্তমান সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিএনপির সংগ্রামের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির প্রয়োগ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নেতারা তাদের মতামত ও প্রশ্ন উপস্থাপন করেন, যার উত্তর দেন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তারা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ ও বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উপায় নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা ও সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সম্মেলনের মাধ্যমে প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, সংগঠনগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী নেতাদের আরও সংগঠিত, উদ্যোগী ও শক্তিশালী ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।