২৫ ও ২৬ এপ্রিল, শনিবার ও রোববার, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয় উত্তর আমেরিকা বিএনপির দুই দিনব্যাপী কর্মশালা ও সম্মেলন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার পাঁচটি প্রদেশ থেকে আগত নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা থেকে অনলাইনে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, যিনি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সমর্থকদের কর্মী, কর্মীদের নেতা হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারাদেশ ও প্রবাসে থাকা শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থক থেকে কর্মী এবং কর্মী থেকে নেতা হিসেবে পরিণত করাই দলের শক্তিকে অটুট রাখবে। সম্মেলনের ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, যিনি স্বৈরাচারী শাসনের সময় প্রবাসী নেতৃবৃন্দের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি প্রবাসী নেতাকর্মীদের অবদান কখনো ভুলবে না উল্লেখ করে বলেন, তাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের কারণে দলের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। আগামি ২০৩১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের ভোটার রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ এবং দলের কাঠামোর মধ্যে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ওপরও আলোকপাত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে প্রবাসী নেতাকর্মীরা আরও সংগঠিত ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে। জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল খান সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানটি, যেখানে তিনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই কর্মশালা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করবে। বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, বর্তমান শাসকের বর্বর নির্যাতন বিরল এবং শহীদ জিয়ার সৈনিকরা ন্যায়নীতি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অটল প্রহরী হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি। এতে অংশগ্রহণকারীরা মতামত ও প্রশ্ন উপস্থাপন করেন এবং সিনিয়র নেতারা ভোটাধিকার সুরক্ষা ও প্রবাসীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা প্রবাসী বিএনপি নেতাদের মধ্যে ঐক্য, সংগঠনগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ দলের শক্তি ও প্রবাসী নেতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।