মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যত বাধাই আসুক ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলব : ড. ইউনূস ভারত-পাকিস্তানে ঈদের তারিখ ঘোষণা, অপেক্ষায় বাংলাদেশ!! বাংলাদেশের ‘এক চীন নীতি’: তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পলিসি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পাইলট প্রকল্প দুই মুখ্য সংগঠক হাসনাত-সারজিসকে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে যা জানা গেল চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের পথসভায় বিএনপির হামলার অভিযোগ জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে ঢাকা অবরোধের ঘোষণা জুলাইযোদ্ধাদের ড্যাবের ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার ইফতার আয়োজনে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

bornomalanews
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫
  • ১৯ Time View

যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পৈশাচিক দৃশ্য, গাজার ঘুমন্ত নারী, শিশু এবং সাধারণ মানুষের ওপর চালানো বর্বর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এক জোরালো বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৯ মার্চ, বুধবার, ইফতার শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে, বাহাদুর শাহ উদ্যান হয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে এসে ভাস্কর্য চত্বরে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এই সময়, শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে রীতিমত উজ্জীবিত হয়ে একের পর এক স্লোগান দিতে থাকে—“নারায়ে তাকবির!”, “আল্লাহু আকবর!”, “আমেরিকার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠো!”, “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠো!”, “ট্রাম্পের দুই গালে জুতা মারো!”, “নেতানিয়াহুর দুই গালে জুতা মারো!”, “ইসরায়েল নিপাত যাক, ফিলিস্তিন মুক্তি পাক!”—এমন স্লোগানগুলো গর্জে উঠতে থাকে ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে। স্লোগানগুলোর মধ্যে অদ্ভুত এক শক্তি, এক অনুভূতি, এক প্রতিবাদ ছিল যা পুরো ক্যাম্পাসে এক উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ফয়সাল মুরাদ তার বক্তব্যে বলেন, “ইসরায়েল একটি অবৈধ রাষ্ট্র। লাখ লাখ শিশু চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। অথচ, তাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা চালানো হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তার কথাগুলো যেন এক দুঃখভারী বাস্তবতার চিত্র, যা সমগ্র মানবজাতিকে নাড়া দেয়।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম আরও ক্ষোভের সাথে বলেন, “আজ মানবাধিকার সংগঠনগুলো কোথায়? শিশুদের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, অথচ কোথাও কেউ তাদের রক্ষা করছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেছে। তাদের চোখে কি এসব দেখাচ্ছে না? আজ আমাদের উচিত মুসলিম বিশ্বের সব শক্তিকে একত্রিত করা। আমাদের শুধু দোয়া করতে হবে না, আমাদের জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ পথে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের গবেষণা করতে হবে, আমাদের স্টাডি করতে হবে।”

এসময়, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রিয়াজুল ইসলাম তার বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে বলেন, “হে মুসলিম, তোমরা জেগে উঠো! তোমাদের হারানো ঐতিহ্য, আল আকসা ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকের মুসলিমদেরই এ যুগের খালিদ হতে হবে। মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, একত্রিত হতে হবে।”

এছাড়া, সমাবেশে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি শাহীন আহমেদ খানও বক্তব্য রাখেন, তাদের ভাষায় প্রতিবাদের এবং একতার গুরুত্ব তুলে ধরে, শত্রুর বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

এই সমাবেশ যেন একটি শপথের মতো, যেখানে শুধু গর্জন নয়, বরং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল—ফিলিস্তিনের জন্য, মানবতার জন্য, এবং ইসলামী ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধারের জন্য একতাবদ্ধ হওয়ার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102