দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরাজিত ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ব্যর্থ করার জন্যই মূলত এই অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর তোপখানা রোডের একটি হোটেলে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের আয়োজনে ইফতার মাহফিলপূর্ব আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মোস্তফা জামাল হায়দার তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, “জুলাই-আগস্টে ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশছাড়া করেছিল। আজও সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে।”
তিনি ছাত্র সমাজের জাগ্রত শক্তির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ছাত্র সমাজ এখনো সজাগ আছে। এই জাগ্রত ছাত্র সমাজই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেবে।” একইসঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে জড়িত সকল রাজনৈতিক দলকে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, “একমাত্র ঐক্যই পারে এই সংকটময় সময়ে দেশকে রক্ষা করতে।”
জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি কাজী ফয়েজ আহম্মেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইশরাক হোসেন এবং জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মোহাম্মদ নাহিদ প্রমুখ। ইফতার মাহফিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তফা জামাল হায়দার তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। পরাজিত শক্তির পুনর্বাসনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার এই চক্রান্ত রুখতে হলে আমাদের সকলকে একসাথে দাঁড়াতে হবে।” তিনি ছাত্র সমাজকে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, ছাত্র সমাজই সবসময় দেশের সংকটময় মুহূর্তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আজও সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সময় এসেছে।”
এই আলোচনা সভা শুধু একটি ইফতার মাহফিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের একটি মঞ্চ। সেখানে উপস্থিত নেতারা একবাক্যে স্বীকার করেন, “দেশকে রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।” তারা আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব।”
মোস্তফা জামাল হায়দারের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ঐক্যের গুরুত্ব। তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়েই আমরা অতীতে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি। আজও সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠব।” তার এই আহ্বান শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্যই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও একটি বার্তা বহন করে—”সবাইকে সচেতন হতে হবে, সতর্ক হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।”
এই ইফতার মাহফিল এবং আলোচনা সভা শেষ হয় একটি আশাবাদী বার্তা নিয়ে—”ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই পারে দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করতে।”