প্রায় অর্ধযুগেরও বেশি সময় পর, বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন, সেখানে তার বড় ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় রয়েছেন।
এদিকে, বিএনপির সিনিয়র নেতারা ঢাকা ও তাদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় ঈদ করবেন এবং ঈদের দিন প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে শুভেচ্ছা জানাতে যাবেন।
ঈদের দিন সকালে, তিনি দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। শুক্রবার, ২৮ মার্চ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঈদ উদযাপনকালে লন্ডনে থাকবেন। অন্যদিকে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে নিজ এলাকায় ঈদ পালন করবেন, এবং অন্যান্য নেতারা ঢাকাতেই থাকবেন। অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
খালেদা জিয়া গত জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। সেখানে তিনি তার বড় ছেলে, পুত্রবধূ, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী এবং তিন নাতনির সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে তিনি তিন মাস তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করেছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছিলেন। দেশে ফিরে আসার পর, মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা হয়নি।
গত জানুয়ারিতে লন্ডনে যাওয়ার পর, খালেদা জিয়া ৮ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দ্য ক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তিনি তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত দুই মাসে তাকে আর হাসপাতালে যেতে হয়নি; প্রয়োজন হলে দ্য ক্লিনিকের চিকিৎসকরা বাসায় এসে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি দ্য ক্লিনিকের অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও জেনিফার ক্রসের অধীনে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিমের সদস্যরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছেন।
তিনি আরও জানান, ঈদের পর খালেদা জিয়া এপ্রিলের যেকোনো দিন দেশে ফিরতে পারেন, তবে এটি পুরোপুরি মেডিকেল টিমের অনুমতির ওপর নির্ভর করছে। তারেক রহমানও শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে দলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যমূলক মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রাখা হয়েছিল, এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার আবেদন অগ্রাহ্য করা হয়েছিল।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর, আওয়ামী সরকারের পতনের ফলে বেগম খালেদা জিয়ার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম হয়েছে। আইনি লড়াইয়ে তিনি সব মামলা মোকাবিলা করছেন, এবং ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতও তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা মামলাগুলোকে হয়রানিমূলক বলে পর্যবেক্ষণ করেছে।
সূত্র: বাসস