আটলান্টার আকাশে-বাতাসে এখন বাংলাদেশের সুর। প্রবাসী বাঙালির সবচেয়ে বড় সম্মেলন ফোবানার ৩৯তম আসর বসতে যাচ্ছে আগামী ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট।
গ্যাস সাউথ এরিনা কনভেনশন সেন্টার ও দ্য ওয়েস্টিন গুইনেট হোটেলের মিলনায়তনে এই মহাআয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। উত্তর আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য এই সম্মেলন হয়ে উঠবে এক অনন্য মিলনমেলা।
নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবারের ফোবানায় নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে থাকবে বাংলা সংস্কৃতির নানা আয়োজন। কাব্য পাঠ, গান, নাচ আর নাটকের মাধ্যমে ফুটে উঠবে বাঙালিয়ানা। ঢাকা, জগন্নাথ ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ স্কলারশিপের ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবেন হাজারো প্রবাসী বাঙালি। ধারণা করা হচ্ছে, এবার সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন আট থেকে দশ হাজার মানুষ। হোস্ট কমিটির কনভেনর নাহিদুল খান সাহেলের ভাষায়, “এটা শুধু একটা সম্মেলন নয়, নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সেতুবন্ধন।” সম্মেলনের মূল মঞ্চে আলোচনা হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর প্রবাসীদের নানা সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতি এবং বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে হবে গভীর বিশ্লেষণ। ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ রব চৌধুরী বলেছেন, “এখানে আমরা শুধু মিলিত হই না, বাংলাদেশের উন্নয়নের পথও খুঁজি।” সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে থাকছে বইমেলা, বিজনেস লাঞ্চ আর কাব্য জলসার মতো বিশেষ অনুষ্ঠান।
ফোবানার ৩৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে দুটি স্মারক ম্যাগাজিন। হোস্ট কমিটির মিডিয়া টিম সম্মেলনের এই বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সর্বত্র। হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে সব রকম প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। হোস্ট কমিটির সদস্য সচিব মাহবুব ভুইয়া জানান, “এবারের আয়োজনে আছে অনেক নতুনত্ব। সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে কিছু অনবদ্য মুহূর্তের জন্য।” আটলান্টার মাটিতে এই সম্মেলন শুধু একটা অনুষ্ঠান নয়, এটা প্রবাসী বাঙালির হৃদয়ের টান। নতুন প্রজন্মের মনে দেশের প্রতি ভালোবাসার বীজ বপনের এই মহতী উদ্যোগ সফল হোক, এটাই সবার কামনা।