রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। এই কথোপকথনের মূল বিষয় ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি। পুতিন এ সময় মোদিকে সম্প্রতি আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের বিস্তারিত জানান, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) এক বিবৃতিতে বলা হয়, মোদি এই কথোপকথনে ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারতের অবিচল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানে ভারত সব ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। মোদি পুতিনের সঙ্গে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন, বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হন, এবং মোদি পুতিনকে এ বছরের শেষে ভারতে ২৩তম দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানান। মোদি এক্সে লিখেছেন, “আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ধন্যবাদ জানাই ফোন করে আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়ে মতামত শেয়ার করার জন্য। ভারত ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে কথা বলেছে এবং এই লক্ষ্যে সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।” এই ফোনালাপের পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র ১০ দিন আগে মোদি ও পুতিনের মধ্যে আরেকটি ফোনালাপে বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, কারণ ভারত রাশিয়া থেকে কম মূল্যে অপরিশোধিত তেল ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই ক্রয় রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিল বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। ভারত এর জবাবে বলেছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যয়ের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে তাদের বাজারভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন। এদিকে, পুতিনের এই ফোন কল এমন সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আলাস্কার ‘শান্তি সম্মেলনে’ জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তবে এবারের বৈঠকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কূটনৈতিকভাবে উপস্থিত থাকবেন। এই আলোচনা বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রচেষ্টা এবং ভারত-রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে।