মার্কিন কারখানা ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি শিগগিরই না থামে তাহলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উচ্চমাত্রার শুল্ক কিংবা বড় আকারের নিষেধাজ্ঞা অথবা উভয় পদক্ষেপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই কঠোর আল্টিমেটাম দেন। সম্প্রতি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ইউক্রেনে মার্কিন সরকারের মালিকানাধীন একটি কারখানা ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি আনন্দিত নই এবং শুধু এই ঘটনাই নয়, এই যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও কিছুর ওপরেই আমি খুশি নই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা এই সংকট সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করব। যদি এমনটা পারি, কেবল তাহলেই আমি খুশি হব। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে সংকট থেকে উত্তরণের পরিস্থিতি না আসে, সেক্ষেত্রে আমাকে রাশিয়ার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে এবং সেটি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা উচ্চমাত্রার শুল্ক, অথবা বড় আকারের নিষেধাজ্ঞা কিংবা উভয়েই হতে পারে। গত সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প ইতিমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন। গত ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিন দিন পর ১৮ আগস্ট হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শিগগিরই মার্কিন প্রশাসনের উদ্যোগে পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমনও বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র হবে সেই সম্ভাব্য বৈঠকের আয়োজক। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমালোচনা এসেছে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকের সমালোচনা করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, সেই বৈঠক ছিল রাশিয়াকে চাপে ফেলার জন্য ইউরোপীয় নেতাদের আনাড়ি প্রচেষ্টা। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই যুদ্ধের সমাধানে মার্কিন প্রশাসনের এই সময়বদ্ধ হুমকি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে।