শান্ত আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অ্যানানসিয়েশন ক্যাথলিক স্কুলের প্রার্থনা কক্ষে সকালের নীরবতা হঠাৎ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় গুলির শব্দে। বুধবার সকালে, যখন প্রায় ৩৯৫ জন শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম সপ্তাহের প্রার্থনায় মগ্ন ছিল, তখন একজন হামলাকারী জানালা দিয়ে গুলি চালিয়ে দুই নিরীহ শিশুকে হত্যা করে, এবং শেষমেশ নিজেও আত্মহত্যা করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪ জনই শিশু, এবং কয়েকজনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। স্কুলটি, যা ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সমস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রার্থনা অনুষ্ঠানে পরিণত হয় একটি রক্তাক্ত দুঃস্বপ্নে। হামলাকারী, যার পরিচয় রবিন ওয়েস্টম্যান হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, বাইরে থেকে রাইফেল দিয়ে জানালা ভেদ করে গুলি চালায়, যা সরাসরি চার্চের পিউতে বসা শিশুদের লক্ষ্য করে। নিহত দুই শিশুর বয়স যথাক্রমে ৮ এবং ১০ বছর, যারা সেখানে প্রার্থনায় লীন ছিল। পুলিশের তথ্য অনুসারে, হামলাকারী ঘটনাস্থলেই নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করে, ফলে মোট নিহতের সংখ্যা তিনে দাঁড়ায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ, এফবিআই এবং ফেডারেল এজেন্টরা স্কুলটিকে ঘিরে ফেলে, অ্যাম্বুলেন্সের সারি দিয়ে আহতদের সরিয়ে নেওয়া হয়। হেনেপিন হেলথকेयर হাসপাতালে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু বয়স ৬ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে, এবং চারজনের জরুরি অস্ত্রোপচার হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন আর কোনো সক্রিয় হুমকি নেই, কিন্তু তদন্ত চলছে হামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওয়েস্টম্যানের ডায়েরি দেখা গেছে, যাতে ইংরেজি এবং রাশিয়ান ভাষায় লেখা অস্ত্রের ডায়াগ্রাম এবং ম্যানিফেস্টো-ধর্মী লেখা রয়েছে, যা ঘটনার পূর্বে আপলোড হয়েছিল এবং পরে সরিয়ে ফেলা হয়। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে ‘ভয়াবহ সহিংসতা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, শিশু এবং শিক্ষকদের এমন আতঙ্কের মুখোমুখি হওয়া অসহনীয়, এবং তাদের জন্য প্রার্থনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে অবহিত, এবং হোয়াইট হাউজ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, সবাইকে প্রার্থনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘এই শিশুরা তো প্রার্থনাই করছিল, স্কুলের প্রথম সপ্তাহে চার্চে—এমনটা হওয়া উচিত নয়।’ এই গুলিবর্ষণ মিনিয়াপোলিসে টানা সহিংসতার ধারাবাহিকতা। মাত্র একদিন আগে, শহরের অন্য একটি স্কুলের বাইরে গুলিতে একজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন, এবং একই দিনে দুটি ভিন্ন ঘটনায় আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যখন হামলাকারীকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক উঠেছে—কিছু সূত্রে তাকে ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল সহিংসতার দীর্ঘ তালিকায় আরেকটি অধ্যায় যোগ করেছে, যা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্নকে আবারও সামনে তুলে ধরছে। যদিও পুলিশের দ্রুত প্রতিক্রিয়া আরও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করেছে, তবু এই দুঃখজনক সকালটি মিনিয়াপোলিসের সম্প্রদায়কে চিরকালের জন্য বদলে দিয়েছে, শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আহতদের সুস্থতা এবং নিহতদের পরিবারের জন্য দেশজুড়ে প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কতদিন এমন সহিংসতা সহ্য করতে হবে?