হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনে বা আকস্মিক পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত ঋণ অনেক সময় আমাদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে। তবে এই ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহারে আপনার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে, আর ভুল ব্যবহারে তা হতে পারে দেনার চাপে ফাঁসার কারণ। ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার সময় কিছু সাধারণ ভুল এড়ানো জরুরি, যা আপনার ঋণ পরিশোধের সুযোগ ও আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এখানে ব্যক্তিগত ঋণ ব্যবহারের সময় যে পাঁচটি ভুল থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হলো-
১. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন ঋণ নেওয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই করুন আপনার প্রকৃত কত টাকার প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ঋণ ভবিষ্যতে কিস্তি পরিশোধে চাপ বাড়ায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার তুলনা করে এবং মাসিক কিস্তি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ঋণ নিন।
২. অপ্রয়োজনীয় খরচে ঋণ ব্যবহার করবেন না ব্যক্তিগত ঋণ সাধারণত জরুরি অবস্থায়, যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা বা বাড়ি মেরামতের জন্য নেওয়া উচিত। বিলাসবহুল ভ্রমণ কিংবা অপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ঋণ নিলে তা দামের চাপে পরিণত হয় এবং আপনার আর্থিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।
৩. কিস্তি মিস করা থেকে বিরত থাকুন ঋণগ্রহণের সময় থেকে পরিকল্পনা করে রাখুন কিস্তি কীভাবে নিয়মিত পরিশোধ করবেন। একবার কিস্তি মিস করলে আপনার ওপর জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ আরোপ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ঋণ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করবে। অটো-ডেবিট সুবিধা চালু করে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে সচেতন থাকুন।
৪. একসঙ্গে একাধিক ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলুন একাধিক ঋণ একই সময়ে নেওয়া আপনার ঋণভার বাড়ায় এবং ঋণগ্রহীতা হিসেবে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা কমায়। ঋণদাতারা এটি ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে, ফলে ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
৫. আগাম ঋণ পরিশোধের সুযোগ কাজে লাগান যখনই সম্ভব, অতিরিক্ত বা বোনাস আয়ের মাধ্যমে ঋণের আংশিক বা পূর্ণ পরিশোধ করুন। এতে সুদ কমে এবং ঋণের বোঝা দ্রুত হ্রাস পায়। ঋণ নেয়ার সময় আগাম পরিশোধের শর্তাবলী ভালো করে যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে তা বাস্তবায়ন করুন। ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া সহজ হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনা না করলে তা আর্থিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই যেকোনো ঋণ গ্রহণের আগে পরিকল্পিত ও সচেতন হোন, যাতে আপনার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুস্থ ও নিরাপদ থাকে।