আগের মতো পাতানো নির্বাচন হতে দেব না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এবার ভোট হবে ১৯৯১ সালের মতো। সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে। নাহিদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা না রাখতে পারলে প্রয়োজনে কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। তবে আমরা মুখোমুখি অবস্থান চাই না। তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। কিন্তু স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ইসি। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কি তারেক রহমানের পরিকল্পনা? এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ইসির সঙ্গে টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল, তবে সেটা ছিল দলীয়। কিন্তু এখন এসেছে নির্বাচন। ইসি যদি সবার আস্থা অর্জন করতে না পারে, তাহলে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করব। তবে বিশ্বাস আছে তারা পারবে। তাদের এমন আচরণ চলতে থাকলে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হব। বিগত সময়ের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ১৬ বছর ধরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। কারণ নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। এবারের নির্বাচন সেটা হবে না এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যেন সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করি। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির কাছ থেকে আমরা এই দায়িত্বশীল আচরণ পাচ্ছি না। নাহিদ বলেন, নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে একপাক্ষিক আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশন বিএনপির চাপে পড়ে আইনি অবস্থান থেকে সরে আসছে এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করছে। বিএনপির চাপে পড়েই ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচন করার সুযোগ দিচ্ছে। ইলেকশন কমিশন সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ইলেকশন কমিশন সবার আস্থা অর্জন না করতে পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে প্রত্যাশা করব? ইলেকশন কমিশন যদি মনে করে দেশে একটাই দল তাহলে তারা ভুল ভেবেছে। ইসি এমন করতে থাকলে, আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হব। ইসি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করলে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দায় প্রধান উপদেষ্টার ওপরও আসবে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও ছাত্রদল ইসির সামনে মব তৈরি করে ইসির এমন রায় দেওয়া হয়েছে। দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিক, তা আমরা চাই না। এজন্য আমরা আদালতে যাব।